Search This Blog

Friday, 16 September 2016

হিরে বসানো সোনার ফুল

হিরে বসানো সোনার ফুল
 লেখকঃসমরেশ মজুমদার
দাম-২০০

তিতির বাড়ির ছোট মেয়ে,পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাড়াতে চায় আর বিয়ে নিয়ে ওর কোন আগ্রহ নেই কারন ওর মনে হয় "যে যদি আমি নিজের পায়ে দাড়াতে পারি আর নিজের খরচ নিজে চালাতে পারি তাহলে কেন আমি বিয়ে করে শুধুশুধু অন্যের ঘাড়ে চেপে বসব"।শুধুমাত্র নিজের ভরণপোষণের জন্যে কারো কাছে হাত পাতা আর তার জন্যে বিয়ে করাটাকে ও পরাধীনতা মনে করত আর খুব অপমানও বোধ করত তাই সে কাজের খোঁজ করতে থাকে আর খেয়ালি হয়েই একদিন এক বন্ধু সুবর্ণার পরামর্শে এক সিরিয়ালের প্রোডিউসারের সাথে দেখা করতে গেল, প্রথমদিনটায় শুধু রিডিং ছিল আর প্রথমদিন হওয়ায় বেশ জড়তা ছিল ওর বলায় তাই পরের দিন আবার ভাল মত অভ্যাস করে আসতে বলা হয় তিতিরকে। এই ব্যাপারে তার বাড়ির কাউকেই কিচ্ছু জানায়নি তিতির কারন জানলে এক কেলেঙ্কারি কান্ড হবে বাড়িতে, কিন্তু সুযোগের অপেক্ষায় ছিল যাতে বাড়িতে ব্যাপারটা জানাতে পারে।
তিতিরের বাড়িতে পাচঁজন সদস্যের বাস।তিতিরের রিটায়ার্ড বাবা,গৃহিনী মা,চাকরিরত দাদা,তিতিরের বউদি আর তিতির।তিতিরের দাদা অনেক রক্ষণশীল ধরনের মানুষ কিন্তু যদিও সেই বিষয়টা শুধুই অন্যের ক্ষেত্রেই প্রজোয্য সে নিজে যতই উড়নচণ্ডীভাবে জীবনযাপন করুক তখন কোন সমস্যা হয় না।সে মেয়েদেরকে ঘরের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ দেখতে চায়, তারা বাইরে গিয়ে কাজ করুক এটা তার পছন্দ না তার ধারনা বাইরে গেলেই মেয়েরা নষ্ট হয়ে যায়, তাদের চরিত্রের কিছুই থাকে না, তারা অসতী হয়ে পরে,আর বাইরে কাজ করলেও সেটা যাতে অবশ্যই মেয়েদের স্কুলের মিসের হয়।
তিতিরের বাবা সেকেলের মানুষ হলেও যথেষ্ট আধুনিক মনমানসিকতার।সে তার সন্তানদের যথেষ্ট স্বাধীনতা দেন আর এও উপদেশ দেন যাতে তারা সীমা আর মর্যাদা বজায় রেখে চলে।
তিতিরের মা ছেলে বলতে অজ্ঞান,তিনি সবসময় তার ছেলেকে আড়াল করে রাখতে চান,তার ছেলে যাই করুক তার সাতখুন মাফ।আর মেয়ে কিছু করলেই তা বড় করে দেখা ওনার স্বভাব।
তিতিরের বউদি,অনেকদিন বাইরের জগতের সাথে পরিচয় না থাকলে মানুষ যেই সমস্যার শিকার হয়। সারাক্ষন ঘরের কাজে ব্যাস্ত থাকা,দুপুরে সিরিয়াল দেখা,মেয়েদের ছোট করে দেখা আর মানুষের বদনাম করা এই ছিল তার নিত্যদিনের কাজ।স্বামীরর কাছে হাত পেতে টাকা নিতে তারও গায়ে লাগত,অথচ সেও গ্র‍্যাজুয়েট কিন্তু বাইরে বেরিয়ে কাজ করার কথা ভাবেনি কোনদিন।তিতিরের সাথে খুব ভাল সম্পর্ক না হলেও খুব খারাপ সম্পর্ক নেই ওর কিন্তু তাও সে তিতিরকে বিয়ে দেয়ার জন্যে জোড় করে,সে তার চিন্তাভাবনা সব তার স্বামির মত করে ফেলেছে,স্বামির সবটুকু সে নিজের মধ্যে ধারন করেছে,তার নিজস্ব কোন চিন্তার জগৎ নেই। সে যেন সব থাকতেও কিছুই নেই একজন মানুষ।
তিতির একটি সিরিয়ালে সুযোগ পায় আর সেই কথা সে বাড়িতে জানাতে ভয় পায়।এর মধ্যে রঞ্জনা মানে তিতিরের বৌদিও স্বামির সাথে রাগ করে কিছুদিনের জন্যে বাপের বাড়ি চলে যায়,সে সন্তান চায় কিন্তু তার স্বামি অক্ষম সে তাকে সহবাসের সুখ দিতে পারেনি এই নিয়ে অনেক ঝামেলা হয় রঞ্জনা আর সুবিরের মধ্যে।অনেকদিন পর রঞ্জুর দেখা হয়ে যায় তার অনেক দিনের পুরনো এক বন্ধুর সংগে আর দেখা হওয়ার পরই বন্ধুর কাছ থেকে একটি চাকরির অফার পায় সে,রঞ্জুর সেই বন্ধুটি একটি ইভেন্ট মেনেজমেন্ট কোম্পানির মালিক,বিয়ে করেছিল বেশ কিছুদিন আগে আর পরে ছাড়াছাড়িও হয়ে যায় আর এখন পুরুষ মানুষ তাকে আর আকর্ষন করে না।
রঞ্জুর চাকরির কথা বাড়িতে জানালে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়,রঞ্জুর শ্বাশুরি হাজারটা যুক্তি দাড়া করায় যাতে রঞ্জু চাকরিতে না যায়। সুবিরও সায় দেয় না তার এই সিদ্ধান্তে কারন তার ধারনা চাকরিতে গেলেই মেয়েদের আপোষ করতে হয় নিজেদের সম্মান হারাতে হয়।রঞ্জুর সেই বন্ধুটি মেয়ে জেনেও তার চরম আপত্তি কাজ করে।অনেক কিছু সামলে রঞ্জু চাকরিতে জয়েন করে এবং খুব অল্পদিনে কাজটা ভাল বুঝে ফেলে আর উন্নতি করতে থাকে এতে তার বন্ধুও খুশি হয়।
এইদিকে তিতিরের শুটিংয়ের দিন এগিয়ে আসে সে বাড়িতে কিছু জানায়নি তখনও কিন্তু তাকে বেশ কিছু জামা বানাতে দিতে দর্জির কাছে যেতে হল শুটিংয়ের পরিচালকের কথায়।আর রঞ্জনার থেকে বেশ কিছু শাড়ি ধার করতে হল তখন রঞ্জু কারন জানতে চাইলে তিতির পরে বলবে বলে বেরিয়ে এল। এরপর মা বাবাকে রাজি করিয়ে নিল আর সুবির বরাবরের মতই বাধা দিল।
শুটিংয়ে তিতির বেশ ভালই নাম করল,তার অদ্ভুত সরল অভিনয় সকলকে খুশি করল আর সেই সাথে নতুন অনেক কিছু শিখতে লাগল আর অনেক মানুষকে বুঝতে ও চিনতে চেষ্টা করতে লাগল।আর বাড়িতে অশান্তি লেগেই আছে তিতিরের আর রঞ্জুর বাইরে কাজ করা নিয়ে।রোজই সুবির বাড়িতে মদ গিলে ফির
ছে কিন্তু তার মা এই বেলায় কিছুই বলছে না ছেলেকে কারন সে তো তার ছেলে,ছেলে বউয়ের দুঃখে এই পথ বেছে নিয়েছে,সুবির প্রায়ই রঞ্জনার অফিসে ব্ল্যাঙ্ক কল করে খোজ নিতে চেষ্টা করে যে আসলেই রঞ্জু অফিসে আছে নাকি আর রঞ্জু ব্যাপারটা বুঝতে পেরে তাকে জেরা করলে সে অস্বীকার করে তখন রঞ্জু পাড়ার মোড়েই টেলিফোন বুথের ছেলেটার থেকে জানতে পারে যে সুবির সেদিন সেখানে দুইবার গিয়েছে আর প্রমাণ স্বরুপ রিসিট সহ নিয়ে আসে আর পরিবারের সবাইকে দেখায়।
এর মধ্যে তিতিরের একটি সিরিয়ালের কাজ শেষ হতে না হতেই অন্য একটির অফার পেয়ে যায় আর কাজ শুরু করবে বলে ঠিক করে আর সেখানেই কৃষানু নামের একটি ছেলের সংগে তিতিরের পরিচয় হয় আর ভাল লেগে যায় একে অপরকে। সুবির রঞ্জনার বসের ব্যাপারে অনেক আজেবাজে কথা বানিয়ে বানিয়ে বলে বাড়িতে ফিরে আর এই নিয়ে অনেক ঝগড়া হয় রঞ্জুর সাথে আর এরপর রঞ্জু আবার নিজের বাপের বাড়িতে ফিরে যায়। সুবির একদিন জেদ করে তিতিরের শুটিং স্পটে যায় তিতিরের সাথে তার হাজার না করা স্বত্তেও আর গিয়ে সেখানে ঝামেলা করে আর তিতির তাকে সেখানে থেকে বেরিয়ে যেতে বলে আর বাড়ি ফিরে নানান আজেবাজে কথা বলে এবং এই কথার জের ধরেই তিতিরের গায়ে হাত তোলে তিতিরের মা আর বলে তার কাজে যাওয়া বন্ধ।কিন্তু তিতিরের বাবার সমর্থনে সে কাজে যায় আবারো রঞ্জু তার কাজ খুব নিষ্ঠার সাথে করছে আর তিতিরের মা একবার যায় রঞ্জুর কাছে তাকে ফিরিয়ে আনতে কিন্তু রঞ্জু ফেরে না।
তিতিরের বিয়ে ঠিক হয় কৃষানুর সাথে আর সে বিয়ের পর বিদেশে চলে যাবে এমনই ঠিক হয়ে থাকে আর রঞ্জু ডিভোর্সের জন্য আপিল করবে বলে মনস্থির করে আর কারন স্বরুপ সে সুবিরের শারীরিক অক্ষমতার কথা তুলে ধরার জন্যে মেডিকেল রিপোর্টগুলো নিয়ে যায়।রঞ্জনা চায়নি সুবিরকে ছেড়ে যেতে,রঞ্জু আর সুবিরের প্রেমের বিয়ে ছিল, না হয় পেল স্বামির থেকে সে শারীরিক সুখ কিন্তু এই যে এই বাড়ির বউ,সুবিরের স্ত্রী আর তিতিরের বৌদি হয়ে থাকার সুখটাই অনেক ছিল তার কাছে কিন্তু প্রশ্নটা যখন নিজের পায়ে দাড়ানোর আর নিজের স্বাধীনতার তখন তাকে ঘুরে দাড়াতেই হল।
মন্তব্য-সত্যি কথা বলতে এই গল্পটি আমার অসাধারণ লেগেছে,একজন পুরুষ হয়েও সমরেশ মজুমদার যেভাবে মেয়েদেরকে বুঝতে পারেন তা আসলেই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। এই দুটি মেয়ের লড়াইটি ছিল অদম্য,যে যাই বলুক তারা তাদের লক্ষ্য পূরন করে তবেই সফল হয়েছে।স্বাধীনতার মানে এই না যে কেউ পরিবার বা সংসারকে অবহেলা করবে, সেটা অবশ্যই কাম্য নয় কিন্তু সেটা সামলেও অনেকেই কাজ করে নিজের পায়ে দাড়াতে পারে আর পারছেও।আমি তিতিরের বাবার প্রতি এক অদ্ভুত শ্রদ্ধা অনুভব করি, অনেক আগের মানুষ হয়েও তার চিন্তাভাবনার আধুনিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে।আর সুবিরের মত ছেলেকে যদি দুটা চড় মারতে পারতাম তাহলে নিজের শান্তি লাগত আর তিতিরের মাও খুব বিরক্তিকর মহিলা।কেন জানি না এরা ছেলেদেরকে কি ভাবে আর কেনই বা ছেলে আর মেয়ের মধ্যে পার্থক্য করে। মা যদি এমন হয় তাহলে দরকার নেই এমন মায়ের। এই ধরনের মহিলাকে কি করা উচিত আমার জানা নেই।সবশেষে অনেক ভাল লাগার একটি গল্প এটি আমার অনেকদিন আগেই পড়া শেষ করেছিলাম কিন্তু রিভিউটা লেখা হয়ে ওঠেনি এর জন্যে দুঃখিত।

রিভিউঃRimjhim Juthi

স্যান্ডস্টর্ম

 স্যান্ডস্টর্ম (সিগমা ফোর্স #১)

লেখকঃ জেমস রলিন্স
রুপান্তর: মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
প্রকাশনীঃ আদী প্রকাশন, প্রকাশকালঃ মার্চ, ২০১৬
কাহিনী সংক্ষেপঃ
ব্যাখ্যার অতীত এক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল লন্ডন মিউজিয়াম।
নড়ে-চড়ে বসল বিশ্বের বেশ কয়েকটি গোপন সংগঠন। প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বের হলো লেডী কারা কেনসিংটন, সুন্দরী এবং বিদূষী ড. সাফিয়া আল-মায়াজ এবং নামকরা প্রত্নতাত্ত্বিক ওমাহা ডান। প্রবেশ করল এমন এক শহরে যা কল্পনাকেও হার মানায়।
কিন্তু ওদের পিছু পিছু ধেয়ে এসেছে অন্যান্যরা। যাদের উদ্দেশ্য-সারা দুনিয়া জুড়ে বয়ে আনবে বিশৃংখলা। সেই সাথে আরব মরুভূমির বিপদ তো আছেই।
সবার লক্ষ্যই এক-এমন এক ক্ষমতার উৎস খুঁজে বের করা, যেটা দুনিয়াকে পড়িণত করতে পারবে স্বর্গে অথবা ধ্বংস করে দেবে মানব সভ্যতাকে!
কে জিতবে শেষ পর্যন্ত?
জেমস রলিন্সের বিখ্যাত সিরিজ সিগমা ফোর্সের প্রথম বই এটি। ইতিহাস, বিজ্ঞান,ভৌগোলিক তথ্যের সাথে সমানতালে এগিয়ে যাওয়া আকশন আর আডভেঞ্চারের পরিপূর্ণ মিশ্রণ।টানটান উত্তেজনায় ভরা এমন একটি বই – যা একবার হাতে তুলে নিলে পাঠক বাধ্য হবে সবকিছু ভুলে যেতে।
বই প্রসঙ্গে খুব বেশি কথা বাড়াবনা। জেমস রলিন্সের লেখনীর সাথে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছু নেই। পাঠ প্রতিক্রিয়াটি মূলত অনুবাদ প্রসঙ্গে। প্রথমত বলতে হবে , অনুবাদ করার জন্য সিগমা ফোর্স বেশ কঠিন একটি সিরিজ। হাজার হাজার তথ্যে ঠাসা গবেষণা লব্ধ বিবরণ আর ভৌগোলিক তথ্যে ভরা একেকটা বই। আরেকটা বৈশিষ্ট হচ্হে, সাহিত্যগুণ। রলিন্সের বইগুলোকে ঠিক চিরাচরিত থ্রিলারের আওতায় ফেলা যায়না। তার ভাষার গাঁথুনির আলাদা একটা ধরণ রয়েছে, শব্দচয়নে স্বকীয়তা রয়েছে। অনুবাদে একটু এদিক সেদিক হলেই পাঠক মূল বইয়ের স্বাদ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। আবার সবকিছু ঠিক রেখে আক্ষরিক অনুবাদ করতে গেলে পুরোপুরি কাঠখোট্টা ভাষান্তর হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে – যাতে পাঠক সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত হয়ে বইটি দূরে সরিয়ে রাখবেন। এতকিছু সামলিয়ে এই ঢাউস আকারের তথ্যবহুল বই অনুবাদ করা তাই বিরাট চ্যালেঞ্জের ব্যপার।
আর এখানেই ফুয়াদ ভাইয়ের স্বার্থকতা। ঝরঝরে প্রাঞ্জল ভাষায় পুরো বইটি অনুবাদ করা হয়েছে। কোথাও কোন তথ্যের ঘাটতি নেই, মূল বর্ণনাভঙ্গির বিকৃতি নেই। পরিসর ঠিক রেখে ছোট ছোট বাক্যে সাজানো সহজ সাবলীল অনুবাদ, পড়তে গিয়ে কোথাও আঁটকাতে হয়না। কপাল কুচকে ভাবতে হয়না, এ আবার কী!!! ফুয়াদ আল ফিদাহ ভাইয়ের অনুবাদের সাথে অনেকেই পরিচিত আছেন। প্রথম থেকেই ওনার অনুবাদের নিজস্ব একটা সহজ স্বাভাবিক ভঙ্গি আছে। ট্রল মাউন্টেন এবং নিল গেইম্যান এর স্টোরিজের অনুবাদ যাদের ভাল লেগেছিল, স্যান্ডস্টর্ম হাতে নিয়ে তার চাইতেও অনেক পরিণত একজন অনুবাদক –কে আবিস্কার করবেন পাঠক।
স্যান্ডস্টর্মের ঝরঝরে অনুবাদ পাঠকের হাতে তুলে দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ Md Fuad Al Fidah ভাই-কে। সেই সাথে অভিনন্দন, এতো অল্পসময়ের মাঝে যথাযথ উৎকর্ষ বজায় রেখে একের পর এক সাবলীল অনুবাদ উপহার দেয়া আপনার পক্ষেই সম্ভব। smile emoticon
বইয়ের রেটিং : ৪/৫
অনুবাদ রেটিং : ৪.৫/৫

 রিভিউঃWasee Ahmed Rafi

ড্রেসডেন ফাইলসঃস্টর্মফ্রন্ট


  • ড্রেসডেন ফাইলস এর স্ট্রর্ম ফ্রন্ট

লেখক : জিম বুচার
অনুবাদক : তানজীম রহমান
প্রকাশনী : বাতিঘর

চিন্তা করে দেখুন তো...
ডেটিং এ গেছেন wink emoticon
প্রেম যখন তুঙ্গে তখন বেরসিকের মত ডিস্টার্ব করতে আসল একটা ডিমন। ধুমধাম স্পেল ছুড়ে দুনিয়া ছাড়া করতে চায়। অবশ্য ডিমন তো আর প্রেম বুঝে না.. বাগড়া দেয়াটাই স্বাভাবিক colonthree emoticon
তবে বয়ফ্রেন্ড যদি হয় জাদুকর - তাহলে প্রেমের মাঝে শুধু ডিমন কেন... ভ্যাম্পায়ার, ওয়্যার-উলফ কিংবা বিষাক্ত কাঁকড়া বিছে এসে বাঁ হাত ঢুকাতে চাইলেও অবাক হবার কিছু নেই। unsure emoticon tongue emoticon
বেচারি সুজান... সে কি আর জানতো জাদকরের সাথে প্রেম করার এত্ত হ্যাপা!! তারও বা কি দোষ? সে তো আর ইচ্ছে করে মেয়েদের ব্যাপারে আনাড়ি জাদুকর হ্যারি ড্রেসডেনের প্রেমে হাবুডুবু খায় নি... আদর্শ সাংবাদিকের মত খবর আদায়ের জন্য এট্টু ভান করেছে মাত্র tongue emoticon যদি গাধাটাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কিছু কথা উদ্ধার করা যায়...
এখন মনে প্রশ্ন আসতেই পারে... জাদুকরের সাথে এমন কি ঘটনা ঘটল যার জন্য এত কাহিনী? তাও আবার যে জাদুকরকে হোয়াইট কাউন্সিল নজরবন্দি করে রেখেছে.... যার মাথার উপর ডুমস অব ড্যামোক্লিসের সমন ঝুলছে??
বলছি... ধীরে ধীরে আগে সেই বেচারা জাদুকরের পরিচয় তো দিয়ে নেই।। নির্বিবাদী, সহজ-সরল এক জাদুকর - হ্যারি ব্ল্যাকস্টোন ডেভিড কপারফিল্ড। ভালমানুষের ছা হলে যা হয়... সে নিজেও ভালমানুষ। কালো জাদুর ক্ষতিকর প্রভাব আর ক্ষমতার অপব্যবহার দেখে নিজেকে গুটিয়ে নেয় সেখান থেকে। কিন্তু দুষ্টুলোকেরা ভাল আর থাকতে দিল কই? জাদুকরদের আদালত হোয়াইট কাউন্সিলকে ভুজুং ভাজুং বুঝিয়ে দিল তার মাথার উপর পরোয়ানা জারি করে। বেচারা হ্যারি আর কি করে... একটা জাদু করার আগে দশবার চিন্তা করতে হয় colonthree emoticon এখন জাদুকর বলে তো আর আসমান থেকে খাবার আসবে না... রুজি রোজগারের জন্য কিছু একটা করা লাগে আর জাদু ছাড়া তো সে কিছু পারেও না। তাই হারানো জিনিস কিংবা হারিয়ে যাওয়া মানুষকে খুঁজে বের করা, মাঝে সাঝে অতিপ্রাকৃতিক কেসে পুলিশকে সাহায্য করা... এভাবেই যাচ্ছিল তার দিনকাল।
হঠাৎই ছন্দপতন.. থুক্কু অলস জীবনে ব্যস্ততা শুরু।।
প্রথমে একজন ফোন কল করে সাহায্য চায় তার হারানো স্বামীকে খুঁজে দেবার জন্য। ফোন রাখতে না রাখতেই আবার ফোন!! স্বয়ং পুলিশ বিভাগ থেকে। অদ্ভুত উপায়ে খুন হয়েছে দুজন মানুষ। সঙ্গমরত অবস্থায় হৃৎপিন্ড ছিঁড়ে নেয়া হয়েছে তাদের। বোঝাই যাচ্ছে খুব শক্তিশালী কালো জাদুর প্রভাব। এই কেসে জড়াবে না জড়াবে না করতে করতে জড়িয়ে পরে সে... একইভাবে হয় আরেকটা খুন!!
এক সময় কালো জাদুর প্রতি ইন্টারেস্টেড হ্যারির দিকে আঙ্গুল তাক করে হোয়াইট কাউন্সিল। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চাইলে এই কেসে অবশ্যই নাক গলাতে হবে আর নাক না গলালে সেই অজানা কালো শক্তি একই ভাবে ছিঁড়ে নিবে হ্যারির হৃৎপিন্ড।
উভয় সংকট বুঝি একেই বলে!!
কি হবে হ্যারি কপারফিল্ডের unsure emoticon
অসাধারণ, সুপার-ডুপার, মাথানষ্ট করে দেয়া একটা বই - জিম বুচারের ড্রেসডেন ফাইলসের প্রথম উপন্যাস - স্ট্রর্ম ফ্রন্ট। ফিকশন বই মনে করে ' ফুহ... ' করে উড়িয়ে দিলে বিশাল মিস colonthree emoticon থ্রিলার বইয়ের চেয়ে কম থ্রিলিং কিছু না। কাট্টাখোট্টা বিজ্ঞানের জগত থেকে জাদুর রহস্যে রোমাঞ্চে ঘেরা নতুন আরেকটা জগত থেকে ঘুরে আসতে খারাপ লাগবে না মোটেও। আর ইয়ে বইটা পড়েছি অনুবাদ। অনুবাদ করেছেন তানজীম রহমান। অনুবাদ প্রসঙ্গে বলতে চাইলে যাস্ট একটা কথাই বলব - এক্কেবারে ফাটায় দিসে।। বেশিই জোসস। একটা ভাল বইয়ের জন্য প্রয়োজন একজন ভাল অনুবাদক। স্ট্রর্ম ফ্রন্ট বইটা এই জন্যই বেশি ভাল্লাগসে kiki emoticon
আমার ঈদটা যে মার-মার, কাট-কাট টাইপের ভাল হয়েছে সেটা যারা বইটা পড়েছেন ( ইংরেজি /অনুবাদ) তারাই ভাল বুঝবেন।
আর কি....
ভাল থাকেন আর বইয়ের সাথেই থাকেন grin emoticon grin emoticon

রেটিং : অবশ্যই ৫/৫ grin emoticon



কাশবনের কন্যা

 কাশবনের কন্যা

লেখক : শামসুদ্দীন আবুল কালাম
প্রথম প্রকাশ : ১৯৫৪

কাশবনের কন্যা। নিঃসন্দেহে বাংলা কথা সাহিত্যের অমর গ্রন্থ। জীবনের প্রথম উপন্যাস লিখেই সবার দৃষ্টিকে তার নিজের দিকে নিয়ে গিয়েছিল শামসুদ্দীন আবুল কালাম।........
ঊপন্যাসটি হোসেনকে নিয়ে শুরু হলেও এ উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দুতেছিল হোসেনের কবিয়াল বন্ধু শিকদার। শিকদার কবিয়াল মানুষ। ঘরসংসার ত্যাগী পুরুষ। মূলত উপন্যাসিক শিকদারকে জীবন সংগ্রামে পরাজীত, ভীরু এবং বাস্তবকে ভুলে থেকে গীত গান রচনা ও তা গাইতে থাকা এক যুবকে তুলে ধরেছেন। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন শিকদার যে গীত রচনা করে এবং তা গায় তা মানুষকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে না। বরং তার গানে শুধু বিষাদ রয়েছে কিন্তু মানুষের জীবন শুধু বিষাদে পরিপূর্ণ নয় এখানে রয়েছে হাসি, অানন্দ। রয়েছে সমাজের নানা কদাচার। আর এসব বিষয়ই আসতে হবে শিকদারের গীতে।.......
উপন্যাসের মূল উপজীব্যই হলো শিকদারের নতুন জীবনের সূচনা। জীবন সংগ্রামে নিজেকে সপে দেওয়ার মাধ্যমেই তাঁর নতুন জীবন শুরু হয়ে। সে জীবনকে দেখ নিতে চায়, সেখান থেকে অভিজ্ঞা অর্জন করে রচনা করতে চায় নতুন ধরনের গীত। যে গীতে থাকবে না শুধু একজন রমণীর জন্য আকুলতা। তাঁর গীতে শুনে মানুষ জীবন সংগ্রাম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেবে না বরং তার গীত শুনে মানুষ আরো উদ্দীপ্ত হবে। হতাশা নয় ঠিকে থাকার জন্য লড়াই করবে। সে প্রকৃত অর্থে একজন কবি হয়ে উঠতে চায়।.........
হোসেনকে দিয়ে উপন্যাস শুরু হলেও উপন্যাসিক যেনো হোসেনের প্রতি প্রচন্ড উদাসীনতা দেখিয়েছেন। সকিনা - হোসেনের প্রেম কিংবা মেহেরজান - হোসেনের প্রেম কোনটা বিয়ে নামক সম্পর্কে গিয়ে পৌছে সেটা আমরা শেষ পর্ষন্ত জানতে পারি নি। লেখক হোসেনকে নিয়ে আর লেখা এগুন নি। ........
উপন্যাসটি পড়ে আমরা পরিচিত হতে পারবো গ্রামীণ বিভিন্ন লোকাচারের সাথে। গ্রামীণ প্রেমের রূপও আমরা প্রত্যক্ষ করবো। এছাড়াও আমরা এ উপন্যাসে দেখবো পুরুষ শাসিত সমাজে মহিলাদের নানাভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে। শুধুই ভোগবিলাসের সামগ্রী হিসেবে তাঁদের বিবেচনা করা হচ্ছে। আবার আমরা এ উপন্যাসে দেখবো এক বিদ্রোহী নারী স্বত্বা জোবেদাকে। যার জন্যই শিকদার বেচে নিয়েছিল তার বৈরাগ্য জীবন।... স্বামী শাশুড়ির নানা অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে জোবেদা স্বামী গৃহ থেকে চলে আসে শিকদারের কাছে। তবে জোবেদা বিদ্রোহ করলেও তাকে পরাজীত হতে হয় সমাজের রীতিনীতির কাছে।.........
উপন্যাস সম্পর্কে বেশি কিছু বলব না। এই উপন্যাস লিখেই বাংলা সাহিত্যে বিশেষ স্থান দখল করেছিলে শামসুদ্দীন আবুল কালাম। এক কথায় অসাধারণ তার এ সৃষ্টি। পড়ে দেখতে পারেন। আশাকরি প্রচন্ড ভালো লাগবে।

দ্যা ডিভোশন অফ সাসপেক্ট এক্স


দ্য ডিভোশন অব সাসপেক্ট এক্স

লেখক-কিয়েগো হিগাশিনো
অনুবাদক-সালমান হক
প্রকাশনী-বাতিঘর
মূল্য-২৬০ টাকা
কাহিনী সংক্ষেপ-অত্যাচারি স্বামীর হাত থেকে পালিয়ে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে নিস্তরঙ্গভাবেই কেটে যাচ্ছিল ইয়াসুকোর দিনগুলো। কিন্তু একদিন আবার দেখা দিলো সেই মানুষরূপী আতঙ্ক। নেশার জন্যে টাকা চাই তার। পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করলো ক্রমেই। ঘটনাচক্রে খুন হয়ে গেলো সে। ত্রাণকর্তা হিসেবে এগিয়ে এলো পাশের বাসার নিরীহ এক গণিতের শিক্ষক। কিন্তু এর পেছনে কি স্বার্থ আছে লোকটার?
এদিকে লাশ আবিষ্কারের পর উঠেপড়ে লাগলো এক ডিটেক্টিভ। ইয়াসুকোকে আপাত দৃষ্টিতে নির্দোষ মনে হলেও কোথাও যেন খুঁত আছে তার গল্পে। তদন্তের স্বার্থে সে সাহায্য চাইলো ডিটেক্টিভ গ্যালিলিও নামে পরিচিত পদার্থবিজ্ঞানের এক অধ্যাপকের কাছে। কিন্তু খুব দ্রুতই বুঝতে পারলো, ঠান্ডা মাথার এক প্রতিভাবান মানুষের মুখোমুখি হয়েছে তারা।
জাপানি-কোরিয়ানদের থ্রিলারগুলোর মাঝে বেশ ডার্ক একটা ব্যাপারস্যাপার আছে। মানুষের মনের অবচেতনে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার চিন্তাভাবনাগুলো ওদের লেখায়, মুভিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে।
হিগাশিনোকে বলা হয় জাপানের স্টিগ লারসন। তবে আমার মনে হয়, হিগাশিনো নিজের স্বকীয় পরিচয়েই ভাস্বর। হিগাশিনো খুব চতুর এবং সুক্ষ্মভাবে এ বইয়ে একটা প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন পাঠককে - কে বেঁচে থাকার যোগ্য আর কে নয়, এই সিদ্ধান্তটা নিতে কে বা কীসে মানুষকে তাড়না যোগায়।
বইটা হাউ ডান ইট জনরার থ্রিলার। ভিক্টিম, অপরাধী মোটামুটি জানাই থাকে, শুধু ছেঁড়া সুতোগুলো জোড়া লাগিয়ে অপরাধীকে ধরার প্রচেষ্টার ইঁদুর-বিড়াল খেলাই এ ধরনের বইয়ের প্রধান উপজীব্য। এ বইয়েও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এ বইয়ে মার মার কাট কাট অ্যাকশন নেই, নেই গা শিউরে উঠার মতো বিকৃত রুচির সিরিয়াল কিলার, ঘন ঘন পট পরিবর্তনের সমারোহও নেই। তবুও কিছু একটা আছে এ বইয়ে। সেই 'কিছু একটা'র টানে বইয়ের প্রথম থেকে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পাতা উল্টাতে বাধ্য হবেন আপনি। গল্পের পরিণতিও আপনাকে ভাবনার খোরাক যোগাবে যথেষ্টই। মোটকথা, দেখলাম, পড়লাম, ভালো লাগল, ভুলে গেলাম টাইপ বই না এটা। এটা পড়লাম, তারপর আবার পাতা উল্টে একটু পিছিয়ে এসে আবার পড়া শুরু করলাম, ধীরেসুস্থে পড়লাম, পড়ার পর অনেকদিন পর্যন্ত ভালো লাগার রেণু পরশ ছড়িয়ে গেল টাইপ বই এইটা। বইয়ের গল্পটা দুইজন চতুর লোকের দাবা খেলার মতো।
ইশিগামি ক্যারেক্টারটার প্রতি মায়া পড়ে গেছে। তাই এই ক্যারেক্টারটার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে আমি কিঞ্চিৎ হতাশ। ইশিগামিকে আরেকটু ভালোভাবে ডেভেলপ করা যেত।
আর বইয়ের এন্ডিং আমার পড়া সেরাগুলোর একটি না হলেও, আমার সবচেয়ে ভালোলাগাগুলোর একটি। এন্ডিংটা আমার খুব ভালো লেগেছে।
আরও অনেকগুলো ভালো লাগা আছে এ বইয়ে। বইটা পুরোপুরি প্লট-নির্ভর। মারদাঙ্গা কোন কাটাকাটি নেই, ডিটেক্টিভদের মধ্যে হুমকিধামকি, চিল্লাফাল্লার মচ্ছব নেই, গোলাগুলির কানফাটা আওয়াজ নেই। পুরো বইয়ে কেমন একটা শান্ত, নিরুপদ্রব আবহাওয়া।
অনুবাদের প্রসঙ্গে এলে অনুবাদক প্রথমেই সবচেয়ে বড় ধন্যবাদটি পাবেন বই সিলেকশনের জন্য। এমন ব্যতিক্রমধর্মী একটা বই সিলেক্ট করার জন্য আমার পক্ষ থেকে অনুবাদককে বিশাল এক ধন্যবাদ। ঝরঝরে সাবলীলভাবে অনুবাদ করে গেছেন তিনি বইটি। তবে কিছু কিছু জায়গায় কথ্য ভাষার প্রয়োগ মাঝে মাঝে দৃষ্টিকটু লেগেছে। তবে তা খুব কম জায়গায়, উপেক্ষণীয়। এ বইয়ের মাধ্যমে অনুবাদক প্রতযাশা বাড়িয়ে দিয়েছেন বহুগুণ। আশা করি ভবিষ্যতেও তার কাছ থেকে আরও ব্যতিক্রমধর্মী এমন সব থ্রিলার পাব।
আমার রেটিংঃ
মূল কাহিনিঃ ৯/১০
অনুবাদঃ ৭.৫/১০


রিভিউঃ Faruk Ahmed
আসসালামু আলাইকুম।আশাকরি সকল বই পোকা-পোকিরা ভালো আছেন।আপনাদের জন্যই এই ব্লগসাইট।সাধারণত দেখা যায় অমুক বই কিরকম,অমুক বইয়ের প্লট কি, কেমন লাগে পড়তে এইসব প্রশ্ন থাককে পাঠকদের মনে।এর সমাধান হচ্ছে বুকরিভিউ।অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন বইয়ের সুন্দর সুন্দর রিভিউ।এইসমস্ত রিভিউকে এক ছাদের নিচে লেবেল আকারে আনার জন্যই এই প্রয়াস যাতে আপনারা সহজেই বিভিন্ন ঘরানার বিভিন্ন বইয়ের রিভিউ সহজেই পেতে পারেন।এখানে বিভিন্নজনের রিভিউ প্রকাশ করা হবে কার্টেসীসহ।আশাকরি বইপাগলরা কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন এই সাইট থেকে।