- ড্রেসডেন ফাইলস এর স্ট্রর্ম ফ্রন্ট
লেখক : জিম বুচার
অনুবাদক : তানজীম রহমান
প্রকাশনী : বাতিঘর
চিন্তা করে দেখুন তো...
ডেটিং এ গেছেন 
প্রেম যখন তুঙ্গে তখন বেরসিকের মত ডিস্টার্ব করতে আসল একটা ডিমন। ধুমধাম স্পেল ছুড়ে দুনিয়া ছাড়া করতে চায়। অবশ্য ডিমন তো আর প্রেম বুঝে না.. বাগড়া দেয়াটাই স্বাভাবিক
প্রেম যখন তুঙ্গে তখন বেরসিকের মত ডিস্টার্ব করতে আসল একটা ডিমন। ধুমধাম স্পেল ছুড়ে দুনিয়া ছাড়া করতে চায়। অবশ্য ডিমন তো আর প্রেম বুঝে না.. বাগড়া দেয়াটাই স্বাভাবিক
তবে বয়ফ্রেন্ড যদি হয় জাদুকর - তাহলে প্রেমের মাঝে শুধু ডিমন কেন... ভ্যাম্পায়ার, ওয়্যার-উলফ কিংবা বিষাক্ত কাঁকড়া বিছে এসে বাঁ হাত ঢুকাতে চাইলেও অবাক হবার কিছু নেই।

বেচারি সুজান... সে কি আর জানতো জাদকরের সাথে প্রেম করার এত্ত হ্যাপা!! তারও বা কি দোষ? সে তো আর ইচ্ছে করে মেয়েদের ব্যাপারে আনাড়ি জাদুকর হ্যারি ড্রেসডেনের প্রেমে হাবুডুবু খায় নি... আদর্শ সাংবাদিকের মত খবর আদায়ের জন্য এট্টু ভান করেছে মাত্র
যদি গাধাটাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কিছু কথা উদ্ধার করা যায়...
এখন মনে প্রশ্ন আসতেই পারে... জাদুকরের সাথে এমন কি ঘটনা ঘটল যার জন্য এত কাহিনী? তাও আবার যে জাদুকরকে হোয়াইট কাউন্সিল নজরবন্দি করে রেখেছে.... যার মাথার উপর ডুমস অব ড্যামোক্লিসের সমন ঝুলছে??
বলছি... ধীরে ধীরে আগে সেই বেচারা জাদুকরের পরিচয় তো দিয়ে নেই।। নির্বিবাদী, সহজ-সরল এক জাদুকর - হ্যারি ব্ল্যাকস্টোন ডেভিড কপারফিল্ড। ভালমানুষের ছা হলে যা হয়... সে নিজেও ভালমানুষ। কালো জাদুর ক্ষতিকর প্রভাব আর ক্ষমতার অপব্যবহার দেখে নিজেকে গুটিয়ে নেয় সেখান থেকে। কিন্তু দুষ্টুলোকেরা ভাল আর থাকতে দিল কই? জাদুকরদের আদালত হোয়াইট কাউন্সিলকে ভুজুং ভাজুং বুঝিয়ে দিল তার মাথার উপর পরোয়ানা জারি করে। বেচারা হ্যারি আর কি করে... একটা জাদু করার আগে দশবার চিন্তা করতে হয়
এখন জাদুকর বলে তো আর আসমান থেকে খাবার আসবে না... রুজি রোজগারের জন্য কিছু একটা করা লাগে আর জাদু ছাড়া তো সে কিছু পারেও না। তাই হারানো জিনিস কিংবা হারিয়ে যাওয়া মানুষকে খুঁজে বের করা, মাঝে সাঝে অতিপ্রাকৃতিক কেসে পুলিশকে সাহায্য করা... এভাবেই যাচ্ছিল তার দিনকাল।
হঠাৎই ছন্দপতন.. থুক্কু অলস জীবনে ব্যস্ততা শুরু।।
প্রথমে একজন ফোন কল করে সাহায্য চায় তার হারানো স্বামীকে খুঁজে দেবার জন্য। ফোন রাখতে না রাখতেই আবার ফোন!! স্বয়ং পুলিশ বিভাগ থেকে। অদ্ভুত উপায়ে খুন হয়েছে দুজন মানুষ। সঙ্গমরত অবস্থায় হৃৎপিন্ড ছিঁড়ে নেয়া হয়েছে তাদের। বোঝাই যাচ্ছে খুব শক্তিশালী কালো জাদুর প্রভাব। এই কেসে জড়াবে না জড়াবে না করতে করতে জড়িয়ে পরে সে... একইভাবে হয় আরেকটা খুন!!
এক সময় কালো জাদুর প্রতি ইন্টারেস্টেড হ্যারির দিকে আঙ্গুল তাক করে হোয়াইট কাউন্সিল। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চাইলে এই কেসে অবশ্যই নাক গলাতে হবে আর নাক না গলালে সেই অজানা কালো শক্তি একই ভাবে ছিঁড়ে নিবে হ্যারির হৃৎপিন্ড।
উভয় সংকট বুঝি একেই বলে!!
কি হবে হ্যারি কপারফিল্ডের
কি হবে হ্যারি কপারফিল্ডের
অসাধারণ, সুপার-ডুপার, মাথানষ্ট করে দেয়া একটা বই - জিম বুচারের ড্রেসডেন ফাইলসের প্রথম উপন্যাস - স্ট্রর্ম ফ্রন্ট। ফিকশন বই মনে করে ' ফুহ... ' করে উড়িয়ে দিলে বিশাল মিস
থ্রিলার বইয়ের চেয়ে কম থ্রিলিং কিছু না। কাট্টাখোট্টা বিজ্ঞানের জগত থেকে জাদুর রহস্যে রোমাঞ্চে ঘেরা নতুন আরেকটা জগত থেকে ঘুরে আসতে খারাপ লাগবে না মোটেও। আর ইয়ে বইটা পড়েছি অনুবাদ। অনুবাদ করেছেন তানজীম রহমান। অনুবাদ প্রসঙ্গে বলতে চাইলে যাস্ট একটা কথাই বলব - এক্কেবারে ফাটায় দিসে।। বেশিই জোসস। একটা ভাল বইয়ের জন্য প্রয়োজন একজন ভাল অনুবাদক। স্ট্রর্ম ফ্রন্ট বইটা এই জন্যই বেশি ভাল্লাগসে 
আমার ঈদটা যে মার-মার, কাট-কাট টাইপের ভাল হয়েছে সেটা যারা বইটা পড়েছেন ( ইংরেজি /অনুবাদ) তারাই ভাল বুঝবেন।
আর কি....
ভাল থাকেন আর বইয়ের সাথেই থাকেন

রেটিং : অবশ্যই ৫/৫
রিভিউঃফারজানা রাইসা
No comments:
Post a Comment