Search This Blog

Friday, 16 September 2016

দ্যা ডিভোশন অফ সাসপেক্ট এক্স


দ্য ডিভোশন অব সাসপেক্ট এক্স

লেখক-কিয়েগো হিগাশিনো
অনুবাদক-সালমান হক
প্রকাশনী-বাতিঘর
মূল্য-২৬০ টাকা
কাহিনী সংক্ষেপ-অত্যাচারি স্বামীর হাত থেকে পালিয়ে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে নিস্তরঙ্গভাবেই কেটে যাচ্ছিল ইয়াসুকোর দিনগুলো। কিন্তু একদিন আবার দেখা দিলো সেই মানুষরূপী আতঙ্ক। নেশার জন্যে টাকা চাই তার। পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করলো ক্রমেই। ঘটনাচক্রে খুন হয়ে গেলো সে। ত্রাণকর্তা হিসেবে এগিয়ে এলো পাশের বাসার নিরীহ এক গণিতের শিক্ষক। কিন্তু এর পেছনে কি স্বার্থ আছে লোকটার?
এদিকে লাশ আবিষ্কারের পর উঠেপড়ে লাগলো এক ডিটেক্টিভ। ইয়াসুকোকে আপাত দৃষ্টিতে নির্দোষ মনে হলেও কোথাও যেন খুঁত আছে তার গল্পে। তদন্তের স্বার্থে সে সাহায্য চাইলো ডিটেক্টিভ গ্যালিলিও নামে পরিচিত পদার্থবিজ্ঞানের এক অধ্যাপকের কাছে। কিন্তু খুব দ্রুতই বুঝতে পারলো, ঠান্ডা মাথার এক প্রতিভাবান মানুষের মুখোমুখি হয়েছে তারা।
জাপানি-কোরিয়ানদের থ্রিলারগুলোর মাঝে বেশ ডার্ক একটা ব্যাপারস্যাপার আছে। মানুষের মনের অবচেতনে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার চিন্তাভাবনাগুলো ওদের লেখায়, মুভিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে।
হিগাশিনোকে বলা হয় জাপানের স্টিগ লারসন। তবে আমার মনে হয়, হিগাশিনো নিজের স্বকীয় পরিচয়েই ভাস্বর। হিগাশিনো খুব চতুর এবং সুক্ষ্মভাবে এ বইয়ে একটা প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন পাঠককে - কে বেঁচে থাকার যোগ্য আর কে নয়, এই সিদ্ধান্তটা নিতে কে বা কীসে মানুষকে তাড়না যোগায়।
বইটা হাউ ডান ইট জনরার থ্রিলার। ভিক্টিম, অপরাধী মোটামুটি জানাই থাকে, শুধু ছেঁড়া সুতোগুলো জোড়া লাগিয়ে অপরাধীকে ধরার প্রচেষ্টার ইঁদুর-বিড়াল খেলাই এ ধরনের বইয়ের প্রধান উপজীব্য। এ বইয়েও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এ বইয়ে মার মার কাট কাট অ্যাকশন নেই, নেই গা শিউরে উঠার মতো বিকৃত রুচির সিরিয়াল কিলার, ঘন ঘন পট পরিবর্তনের সমারোহও নেই। তবুও কিছু একটা আছে এ বইয়ে। সেই 'কিছু একটা'র টানে বইয়ের প্রথম থেকে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পাতা উল্টাতে বাধ্য হবেন আপনি। গল্পের পরিণতিও আপনাকে ভাবনার খোরাক যোগাবে যথেষ্টই। মোটকথা, দেখলাম, পড়লাম, ভালো লাগল, ভুলে গেলাম টাইপ বই না এটা। এটা পড়লাম, তারপর আবার পাতা উল্টে একটু পিছিয়ে এসে আবার পড়া শুরু করলাম, ধীরেসুস্থে পড়লাম, পড়ার পর অনেকদিন পর্যন্ত ভালো লাগার রেণু পরশ ছড়িয়ে গেল টাইপ বই এইটা। বইয়ের গল্পটা দুইজন চতুর লোকের দাবা খেলার মতো।
ইশিগামি ক্যারেক্টারটার প্রতি মায়া পড়ে গেছে। তাই এই ক্যারেক্টারটার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে আমি কিঞ্চিৎ হতাশ। ইশিগামিকে আরেকটু ভালোভাবে ডেভেলপ করা যেত।
আর বইয়ের এন্ডিং আমার পড়া সেরাগুলোর একটি না হলেও, আমার সবচেয়ে ভালোলাগাগুলোর একটি। এন্ডিংটা আমার খুব ভালো লেগেছে।
আরও অনেকগুলো ভালো লাগা আছে এ বইয়ে। বইটা পুরোপুরি প্লট-নির্ভর। মারদাঙ্গা কোন কাটাকাটি নেই, ডিটেক্টিভদের মধ্যে হুমকিধামকি, চিল্লাফাল্লার মচ্ছব নেই, গোলাগুলির কানফাটা আওয়াজ নেই। পুরো বইয়ে কেমন একটা শান্ত, নিরুপদ্রব আবহাওয়া।
অনুবাদের প্রসঙ্গে এলে অনুবাদক প্রথমেই সবচেয়ে বড় ধন্যবাদটি পাবেন বই সিলেকশনের জন্য। এমন ব্যতিক্রমধর্মী একটা বই সিলেক্ট করার জন্য আমার পক্ষ থেকে অনুবাদককে বিশাল এক ধন্যবাদ। ঝরঝরে সাবলীলভাবে অনুবাদ করে গেছেন তিনি বইটি। তবে কিছু কিছু জায়গায় কথ্য ভাষার প্রয়োগ মাঝে মাঝে দৃষ্টিকটু লেগেছে। তবে তা খুব কম জায়গায়, উপেক্ষণীয়। এ বইয়ের মাধ্যমে অনুবাদক প্রতযাশা বাড়িয়ে দিয়েছেন বহুগুণ। আশা করি ভবিষ্যতেও তার কাছ থেকে আরও ব্যতিক্রমধর্মী এমন সব থ্রিলার পাব।
আমার রেটিংঃ
মূল কাহিনিঃ ৯/১০
অনুবাদঃ ৭.৫/১০


রিভিউঃ Faruk Ahmed

No comments:

Post a Comment