হিরে বসানো সোনার ফুল
লেখকঃসমরেশ মজুমদার
দাম-২০০
দাম-২০০
তিতির বাড়ির ছোট মেয়ে,পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাড়াতে চায় আর বিয়ে নিয়ে ওর কোন আগ্রহ নেই কারন ওর মনে হয় "যে যদি আমি নিজের পায়ে দাড়াতে পারি আর নিজের খরচ নিজে চালাতে পারি তাহলে কেন আমি বিয়ে করে শুধুশুধু অন্যের ঘাড়ে চেপে বসব"।শুধুমাত্র নিজের ভরণপোষণের জন্যে কারো কাছে হাত পাতা আর তার জন্যে বিয়ে করাটাকে ও পরাধীনতা মনে করত আর খুব অপমানও বোধ করত তাই সে কাজের খোঁজ করতে থাকে আর খেয়ালি হয়েই একদিন এক বন্ধু সুবর্ণার পরামর্শে এক সিরিয়ালের প্রোডিউসারের সাথে দেখা করতে গেল, প্রথমদিনটায় শুধু রিডিং ছিল আর প্রথমদিন হওয়ায় বেশ জড়তা ছিল ওর বলায় তাই পরের দিন আবার ভাল মত অভ্যাস করে আসতে বলা হয় তিতিরকে। এই ব্যাপারে তার বাড়ির কাউকেই কিচ্ছু জানায়নি তিতির কারন জানলে এক কেলেঙ্কারি কান্ড হবে বাড়িতে, কিন্তু সুযোগের অপেক্ষায় ছিল যাতে বাড়িতে ব্যাপারটা জানাতে পারে।
তিতিরের বাড়িতে পাচঁজন সদস্যের বাস।তিতিরের রিটায়ার্ড বাবা,গৃহিনী মা,চাকরিরত দাদা,তিতিরের বউদি আর তিতির।তিতিরের দাদা অনেক রক্ষণশীল ধরনের মানুষ কিন্তু যদিও সেই বিষয়টা শুধুই অন্যের ক্ষেত্রেই প্রজোয্য সে নিজে যতই উড়নচণ্ডীভাবে জীবনযাপন করুক তখন কোন সমস্যা হয় না।সে মেয়েদেরকে ঘরের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ দেখতে চায়, তারা বাইরে গিয়ে কাজ করুক এটা তার পছন্দ না তার ধারনা বাইরে গেলেই মেয়েরা নষ্ট হয়ে যায়, তাদের চরিত্রের কিছুই থাকে না, তারা অসতী হয়ে পরে,আর বাইরে কাজ করলেও সেটা যাতে অবশ্যই মেয়েদের স্কুলের মিসের হয়।
তিতিরের বাবা সেকেলের মানুষ হলেও যথেষ্ট আধুনিক মনমানসিকতার।সে তার সন্তানদের যথেষ্ট স্বাধীনতা দেন আর এও উপদেশ দেন যাতে তারা সীমা আর মর্যাদা বজায় রেখে চলে।
তিতিরের মা ছেলে বলতে অজ্ঞান,তিনি সবসময় তার ছেলেকে আড়াল করে রাখতে চান,তার ছেলে যাই করুক তার সাতখুন মাফ।আর মেয়ে কিছু করলেই তা বড় করে দেখা ওনার স্বভাব।
তিতিরের বউদি,অনেকদিন বাইরের জগতের সাথে পরিচয় না থাকলে মানুষ যেই সমস্যার শিকার হয়। সারাক্ষন ঘরের কাজে ব্যাস্ত থাকা,দুপুরে সিরিয়াল দেখা,মেয়েদের ছোট করে দেখা আর মানুষের বদনাম করা এই ছিল তার নিত্যদিনের কাজ।স্বামীরর কাছে হাত পেতে টাকা নিতে তারও গায়ে লাগত,অথচ সেও গ্র্যাজুয়েট কিন্তু বাইরে বেরিয়ে কাজ করার কথা ভাবেনি কোনদিন।তিতিরের সাথে খুব ভাল সম্পর্ক না হলেও খুব খারাপ সম্পর্ক নেই ওর কিন্তু তাও সে তিতিরকে বিয়ে দেয়ার জন্যে জোড় করে,সে তার চিন্তাভাবনা সব তার স্বামির মত করে ফেলেছে,স্বামির সবটুকু সে নিজের মধ্যে ধারন করেছে,তার নিজস্ব কোন চিন্তার জগৎ নেই। সে যেন সব থাকতেও কিছুই নেই একজন মানুষ।
তিতির একটি সিরিয়ালে সুযোগ পায় আর সেই কথা সে বাড়িতে জানাতে ভয় পায়।এর মধ্যে রঞ্জনা মানে তিতিরের বৌদিও স্বামির সাথে রাগ করে কিছুদিনের জন্যে বাপের বাড়ি চলে যায়,সে সন্তান চায় কিন্তু তার স্বামি অক্ষম সে তাকে সহবাসের সুখ দিতে পারেনি এই নিয়ে অনেক ঝামেলা হয় রঞ্জনা আর সুবিরের মধ্যে।অনেকদিন পর রঞ্জুর দেখা হয়ে যায় তার অনেক দিনের পুরনো এক বন্ধুর সংগে আর দেখা হওয়ার পরই বন্ধুর কাছ থেকে একটি চাকরির অফার পায় সে,রঞ্জুর সেই বন্ধুটি একটি ইভেন্ট মেনেজমেন্ট কোম্পানির মালিক,বিয়ে করেছিল বেশ কিছুদিন আগে আর পরে ছাড়াছাড়িও হয়ে যায় আর এখন পুরুষ মানুষ তাকে আর আকর্ষন করে না।
রঞ্জুর চাকরির কথা বাড়িতে জানালে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়,রঞ্জুর শ্বাশুরি হাজারটা যুক্তি দাড়া করায় যাতে রঞ্জু চাকরিতে না যায়। সুবিরও সায় দেয় না তার এই সিদ্ধান্তে কারন তার ধারনা চাকরিতে গেলেই মেয়েদের আপোষ করতে হয় নিজেদের সম্মান হারাতে হয়।রঞ্জুর সেই বন্ধুটি মেয়ে জেনেও তার চরম আপত্তি কাজ করে।অনেক কিছু সামলে রঞ্জু চাকরিতে জয়েন করে এবং খুব অল্পদিনে কাজটা ভাল বুঝে ফেলে আর উন্নতি করতে থাকে এতে তার বন্ধুও খুশি হয়।
এইদিকে তিতিরের শুটিংয়ের দিন এগিয়ে আসে সে বাড়িতে কিছু জানায়নি তখনও কিন্তু তাকে বেশ কিছু জামা বানাতে দিতে দর্জির কাছে যেতে হল শুটিংয়ের পরিচালকের কথায়।আর রঞ্জনার থেকে বেশ কিছু শাড়ি ধার করতে হল তখন রঞ্জু কারন জানতে চাইলে তিতির পরে বলবে বলে বেরিয়ে এল। এরপর মা বাবাকে রাজি করিয়ে নিল আর সুবির বরাবরের মতই বাধা দিল।
শুটিংয়ে তিতির বেশ ভালই নাম করল,তার অদ্ভুত সরল অভিনয় সকলকে খুশি করল আর সেই সাথে নতুন অনেক কিছু শিখতে লাগল আর অনেক মানুষকে বুঝতে ও চিনতে চেষ্টা করতে লাগল।আর বাড়িতে অশান্তি লেগেই আছে তিতিরের আর রঞ্জুর বাইরে কাজ করা নিয়ে।রোজই সুবির বাড়িতে মদ গিলে ফির
তিতিরের বাড়িতে পাচঁজন সদস্যের বাস।তিতিরের রিটায়ার্ড বাবা,গৃহিনী মা,চাকরিরত দাদা,তিতিরের বউদি আর তিতির।তিতিরের দাদা অনেক রক্ষণশীল ধরনের মানুষ কিন্তু যদিও সেই বিষয়টা শুধুই অন্যের ক্ষেত্রেই প্রজোয্য সে নিজে যতই উড়নচণ্ডীভাবে জীবনযাপন করুক তখন কোন সমস্যা হয় না।সে মেয়েদেরকে ঘরের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ দেখতে চায়, তারা বাইরে গিয়ে কাজ করুক এটা তার পছন্দ না তার ধারনা বাইরে গেলেই মেয়েরা নষ্ট হয়ে যায়, তাদের চরিত্রের কিছুই থাকে না, তারা অসতী হয়ে পরে,আর বাইরে কাজ করলেও সেটা যাতে অবশ্যই মেয়েদের স্কুলের মিসের হয়।
তিতিরের বাবা সেকেলের মানুষ হলেও যথেষ্ট আধুনিক মনমানসিকতার।সে তার সন্তানদের যথেষ্ট স্বাধীনতা দেন আর এও উপদেশ দেন যাতে তারা সীমা আর মর্যাদা বজায় রেখে চলে।
তিতিরের মা ছেলে বলতে অজ্ঞান,তিনি সবসময় তার ছেলেকে আড়াল করে রাখতে চান,তার ছেলে যাই করুক তার সাতখুন মাফ।আর মেয়ে কিছু করলেই তা বড় করে দেখা ওনার স্বভাব।
তিতিরের বউদি,অনেকদিন বাইরের জগতের সাথে পরিচয় না থাকলে মানুষ যেই সমস্যার শিকার হয়। সারাক্ষন ঘরের কাজে ব্যাস্ত থাকা,দুপুরে সিরিয়াল দেখা,মেয়েদের ছোট করে দেখা আর মানুষের বদনাম করা এই ছিল তার নিত্যদিনের কাজ।স্বামীরর কাছে হাত পেতে টাকা নিতে তারও গায়ে লাগত,অথচ সেও গ্র্যাজুয়েট কিন্তু বাইরে বেরিয়ে কাজ করার কথা ভাবেনি কোনদিন।তিতিরের সাথে খুব ভাল সম্পর্ক না হলেও খুব খারাপ সম্পর্ক নেই ওর কিন্তু তাও সে তিতিরকে বিয়ে দেয়ার জন্যে জোড় করে,সে তার চিন্তাভাবনা সব তার স্বামির মত করে ফেলেছে,স্বামির সবটুকু সে নিজের মধ্যে ধারন করেছে,তার নিজস্ব কোন চিন্তার জগৎ নেই। সে যেন সব থাকতেও কিছুই নেই একজন মানুষ।
তিতির একটি সিরিয়ালে সুযোগ পায় আর সেই কথা সে বাড়িতে জানাতে ভয় পায়।এর মধ্যে রঞ্জনা মানে তিতিরের বৌদিও স্বামির সাথে রাগ করে কিছুদিনের জন্যে বাপের বাড়ি চলে যায়,সে সন্তান চায় কিন্তু তার স্বামি অক্ষম সে তাকে সহবাসের সুখ দিতে পারেনি এই নিয়ে অনেক ঝামেলা হয় রঞ্জনা আর সুবিরের মধ্যে।অনেকদিন পর রঞ্জুর দেখা হয়ে যায় তার অনেক দিনের পুরনো এক বন্ধুর সংগে আর দেখা হওয়ার পরই বন্ধুর কাছ থেকে একটি চাকরির অফার পায় সে,রঞ্জুর সেই বন্ধুটি একটি ইভেন্ট মেনেজমেন্ট কোম্পানির মালিক,বিয়ে করেছিল বেশ কিছুদিন আগে আর পরে ছাড়াছাড়িও হয়ে যায় আর এখন পুরুষ মানুষ তাকে আর আকর্ষন করে না।
রঞ্জুর চাকরির কথা বাড়িতে জানালে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়,রঞ্জুর শ্বাশুরি হাজারটা যুক্তি দাড়া করায় যাতে রঞ্জু চাকরিতে না যায়। সুবিরও সায় দেয় না তার এই সিদ্ধান্তে কারন তার ধারনা চাকরিতে গেলেই মেয়েদের আপোষ করতে হয় নিজেদের সম্মান হারাতে হয়।রঞ্জুর সেই বন্ধুটি মেয়ে জেনেও তার চরম আপত্তি কাজ করে।অনেক কিছু সামলে রঞ্জু চাকরিতে জয়েন করে এবং খুব অল্পদিনে কাজটা ভাল বুঝে ফেলে আর উন্নতি করতে থাকে এতে তার বন্ধুও খুশি হয়।
এইদিকে তিতিরের শুটিংয়ের দিন এগিয়ে আসে সে বাড়িতে কিছু জানায়নি তখনও কিন্তু তাকে বেশ কিছু জামা বানাতে দিতে দর্জির কাছে যেতে হল শুটিংয়ের পরিচালকের কথায়।আর রঞ্জনার থেকে বেশ কিছু শাড়ি ধার করতে হল তখন রঞ্জু কারন জানতে চাইলে তিতির পরে বলবে বলে বেরিয়ে এল। এরপর মা বাবাকে রাজি করিয়ে নিল আর সুবির বরাবরের মতই বাধা দিল।
শুটিংয়ে তিতির বেশ ভালই নাম করল,তার অদ্ভুত সরল অভিনয় সকলকে খুশি করল আর সেই সাথে নতুন অনেক কিছু শিখতে লাগল আর অনেক মানুষকে বুঝতে ও চিনতে চেষ্টা করতে লাগল।আর বাড়িতে অশান্তি লেগেই আছে তিতিরের আর রঞ্জুর বাইরে কাজ করা নিয়ে।রোজই সুবির বাড়িতে মদ গিলে ফির
ছে কিন্তু তার মা এই বেলায় কিছুই বলছে না ছেলেকে কারন সে তো তার ছেলে,ছেলে বউয়ের দুঃখে এই পথ বেছে নিয়েছে,সুবির প্রায়ই রঞ্জনার অফিসে ব্ল্যাঙ্ক কল করে খোজ নিতে চেষ্টা করে যে আসলেই রঞ্জু অফিসে আছে নাকি আর রঞ্জু ব্যাপারটা বুঝতে পেরে তাকে জেরা করলে সে অস্বীকার করে তখন রঞ্জু পাড়ার মোড়েই টেলিফোন বুথের ছেলেটার থেকে জানতে পারে যে সুবির সেদিন সেখানে দুইবার গিয়েছে আর প্রমাণ স্বরুপ রিসিট সহ নিয়ে আসে আর পরিবারের সবাইকে দেখায়।
এর মধ্যে তিতিরের একটি সিরিয়ালের কাজ শেষ হতে না হতেই অন্য একটির অফার পেয়ে যায় আর কাজ শুরু করবে বলে ঠিক করে আর সেখানেই কৃষানু নামের একটি ছেলের সংগে তিতিরের পরিচয় হয় আর ভাল লেগে যায় একে অপরকে। সুবির রঞ্জনার বসের ব্যাপারে অনেক আজেবাজে কথা বানিয়ে বানিয়ে বলে বাড়িতে ফিরে আর এই নিয়ে অনেক ঝগড়া হয় রঞ্জুর সাথে আর এরপর রঞ্জু আবার নিজের বাপের বাড়িতে ফিরে যায়। সুবির একদিন জেদ করে তিতিরের শুটিং স্পটে যায় তিতিরের সাথে তার হাজার না করা স্বত্তেও আর গিয়ে সেখানে ঝামেলা করে আর তিতির তাকে সেখানে থেকে বেরিয়ে যেতে বলে আর বাড়ি ফিরে নানান আজেবাজে কথা বলে এবং এই কথার জের ধরেই তিতিরের গায়ে হাত তোলে তিতিরের মা আর বলে তার কাজে যাওয়া বন্ধ।কিন্তু তিতিরের বাবার সমর্থনে সে কাজে যায় আবারো রঞ্জু তার কাজ খুব নিষ্ঠার সাথে করছে আর তিতিরের মা একবার যায় রঞ্জুর কাছে তাকে ফিরিয়ে আনতে কিন্তু রঞ্জু ফেরে না।
তিতিরের বিয়ে ঠিক হয় কৃষানুর সাথে আর সে বিয়ের পর বিদেশে চলে যাবে এমনই ঠিক হয়ে থাকে আর রঞ্জু ডিভোর্সের জন্য আপিল করবে বলে মনস্থির করে আর কারন স্বরুপ সে সুবিরের শারীরিক অক্ষমতার কথা তুলে ধরার জন্যে মেডিকেল রিপোর্টগুলো নিয়ে যায়।রঞ্জনা চায়নি সুবিরকে ছেড়ে যেতে,রঞ্জু আর সুবিরের প্রেমের বিয়ে ছিল, না হয় পেল স্বামির থেকে সে শারীরিক সুখ কিন্তু এই যে এই বাড়ির বউ,সুবিরের স্ত্রী আর তিতিরের বৌদি হয়ে থাকার সুখটাই অনেক ছিল তার কাছে কিন্তু প্রশ্নটা যখন নিজের পায়ে দাড়ানোর আর নিজের স্বাধীনতার তখন তাকে ঘুরে দাড়াতেই হল।
এর মধ্যে তিতিরের একটি সিরিয়ালের কাজ শেষ হতে না হতেই অন্য একটির অফার পেয়ে যায় আর কাজ শুরু করবে বলে ঠিক করে আর সেখানেই কৃষানু নামের একটি ছেলের সংগে তিতিরের পরিচয় হয় আর ভাল লেগে যায় একে অপরকে। সুবির রঞ্জনার বসের ব্যাপারে অনেক আজেবাজে কথা বানিয়ে বানিয়ে বলে বাড়িতে ফিরে আর এই নিয়ে অনেক ঝগড়া হয় রঞ্জুর সাথে আর এরপর রঞ্জু আবার নিজের বাপের বাড়িতে ফিরে যায়। সুবির একদিন জেদ করে তিতিরের শুটিং স্পটে যায় তিতিরের সাথে তার হাজার না করা স্বত্তেও আর গিয়ে সেখানে ঝামেলা করে আর তিতির তাকে সেখানে থেকে বেরিয়ে যেতে বলে আর বাড়ি ফিরে নানান আজেবাজে কথা বলে এবং এই কথার জের ধরেই তিতিরের গায়ে হাত তোলে তিতিরের মা আর বলে তার কাজে যাওয়া বন্ধ।কিন্তু তিতিরের বাবার সমর্থনে সে কাজে যায় আবারো রঞ্জু তার কাজ খুব নিষ্ঠার সাথে করছে আর তিতিরের মা একবার যায় রঞ্জুর কাছে তাকে ফিরিয়ে আনতে কিন্তু রঞ্জু ফেরে না।
তিতিরের বিয়ে ঠিক হয় কৃষানুর সাথে আর সে বিয়ের পর বিদেশে চলে যাবে এমনই ঠিক হয়ে থাকে আর রঞ্জু ডিভোর্সের জন্য আপিল করবে বলে মনস্থির করে আর কারন স্বরুপ সে সুবিরের শারীরিক অক্ষমতার কথা তুলে ধরার জন্যে মেডিকেল রিপোর্টগুলো নিয়ে যায়।রঞ্জনা চায়নি সুবিরকে ছেড়ে যেতে,রঞ্জু আর সুবিরের প্রেমের বিয়ে ছিল, না হয় পেল স্বামির থেকে সে শারীরিক সুখ কিন্তু এই যে এই বাড়ির বউ,সুবিরের স্ত্রী আর তিতিরের বৌদি হয়ে থাকার সুখটাই অনেক ছিল তার কাছে কিন্তু প্রশ্নটা যখন নিজের পায়ে দাড়ানোর আর নিজের স্বাধীনতার তখন তাকে ঘুরে দাড়াতেই হল।
মন্তব্য-সত্যি কথা বলতে এই গল্পটি আমার অসাধারণ লেগেছে,একজন পুরুষ হয়েও সমরেশ মজুমদার যেভাবে মেয়েদেরকে বুঝতে পারেন তা আসলেই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। এই দুটি মেয়ের লড়াইটি ছিল অদম্য,যে যাই বলুক তারা তাদের লক্ষ্য পূরন করে তবেই সফল হয়েছে।স্বাধীনতা র মানে এই না যে কেউ পরিবার বা সংসারকে অবহেলা করবে, সেটা অবশ্যই কাম্য নয় কিন্তু সেটা সামলেও অনেকেই কাজ করে নিজের পায়ে দাড়াতে পারে আর পারছেও।আমি তিতিরের বাবার প্রতি এক অদ্ভুত শ্রদ্ধা অনুভব করি, অনেক আগের মানুষ হয়েও তার চিন্তাভাবনার আধুনিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে।আর সুবিরের মত ছেলেকে যদি দুটা চড় মারতে পারতাম তাহলে নিজের শান্তি লাগত আর তিতিরের মাও খুব বিরক্তিকর মহিলা।কেন জানি না এরা ছেলেদেরকে কি ভাবে আর কেনই বা ছেলে আর মেয়ের মধ্যে পার্থক্য করে। মা যদি এমন হয় তাহলে দরকার নেই এমন মায়ের। এই ধরনের মহিলাকে কি করা উচিত আমার জানা নেই।সবশেষে অনেক ভাল লাগার একটি গল্প এটি আমার অনেকদিন আগেই পড়া শেষ করেছিলাম কিন্তু রিভিউটা লেখা হয়ে ওঠেনি এর জন্যে দুঃখিত।
রিভিউঃRimjhim Juthi
No comments:
Post a Comment